দেহের ব্যাকটেরিয়া যখন চোখকে ক্ষতিগ্রস্ত করে !!
সাম্প্রতিক গবেষণার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা দেহের অন্ত্রে অবস্থিত ব্যাকটেরিয়ার সাথে চোখের বংশগতীয় রোগের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন।
চীনের " Sun Yat Sen University" ও যুক্তরাজ্যের "UCL Institute of Ophthalmology" এর যৌথ গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা যায়, আমাদের অন্ত্রে ট্রিলিয়নের বেশি ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে। এগুলো সাধারণত উপকারী হিসেবেই বিবেচনা করা হত। তবে বর্তমান গবেষণায় দেখা যায়, উপকারী হলেও এদের অনেক ব্যাকটেরিয়া দেহের জন্য ক্ষতিকরকও হয়।
বিজ্ঞানীরা " Mutation Mouse Model" গবেষণার পরীক্ষায় দেখা যায়, জিনের নির্দিষ্ট একটি অংশকে মিউটেশন ঘটানোর ফলে সেটা চোখের রেটিনা ও অন্ত্র উভয় অংশের জিন এক্সপ্রেশন ( অভিব্যক্তি ) হ্রাস ঘটায়। পরবর্তীতে আরো কিছু গবেষণায় জিনটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন গবেষকরা। যা টাইপ " CBR1" হিসেবে জিনের হোমলোকাস অবস্থানে থাকে।
এই জিনটিই মূলত অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে চোখের রেটিনায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যার ফলে, চোখের অন্ধত্বসহ বিভিন্ন ধরনের বংশগতীয় রোগের সৃষ্টি করে। এছাড়াও লেবার কনজেনিটাল অ্যামাউরোসিস (LCA) এবং রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা (RP) ঘটায় ।বিশ্বব্যাপী LCA এর ১০% এবং RP-এর ৭% রোগের ক্ষেত্রে জিনটি প্রভাব বিস্তার করেছে।
এ প্রসঙ্গে "UCL Institute of Ophthalmology" ও "Moorfields Eye Hospital NHS Foundation Trust" এর সহ পরিচালক প্রফেসর রিচার্ড লি জানান, "CBR1 জিনটিই মূলত চোখের রেটিনা ও অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ক্ষেত্রে যোগসূত্র স্থাপন করেছে। তবে আমরা এক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রদানের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা হ্রাস করতে পেরেছি । আশা করি খুব দ্রুতই সফলতা আসবে"
বর্তমানে এটি শুধুমাত্র ইঁদুরের শরীরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এ গবেষণায় সফলতা পেলে ধীরে ধীরে তা মানুষের মাঝেও প্রয়োগ করা হবে এবং এর মাধ্যমে চোখের বংশগতীয় রোগগুলো খুব শীঘ্রই নির্মূল করা যাবে বলে গবেষকরা মনে করেন ।
ধন্যবাদন্তে
Alock Sarker

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন